দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের জন্য উন্নয়ন-সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয় এবং বিশ্বব্যাপী অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা ছাড়া এটি অর্জন করা যাবে না।
ইতালির রোমে গতকাল মঙ্গলবার ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যাগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্টের (ইফাদ) সদর দপ্তরে সংস্থাটির ৪১তম পরিচালনা পরিষদের সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি চার দিনের সরকারি সফরে গত রোববার ইতালি যান।
অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ফ্র্যাজিলিটি টু লং টার্ম রেজিলিয়েন্স: ইনভেস্ট ইন সাসটেইনেবল রুরাল ইকোনমি’। বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণে উন্নয়ন-সহযোগীদের আরও একটু উদার হতে হবে।
বাংলাদেশ ও উন্নয়ন-সহযোগীদের মধ্যে সহায়তা অব্যাহত থাকার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত রাখতে ইফাদ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা স্থাপন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা যাবে না। গ্রামীণ সামাজিক ও জলবায়ুগত স্থিতিশীলতার উন্নয়নে ব্যাপকভিত্তিক টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি প্রয়োজন। তিনি টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি তৈরিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদিভাবে স্থিতিশীলতা আনার আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা ৯ বিলিয়ন (৯০০ কোটি) ছাড়িয়ে যাবে এবং এর অর্ধেক হবে মধ্যবিত্ত। এর ফলে বিশ্বের আবাদি জমি, বনভূমি ও পানির ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়বে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে অনেক দেশের আবাদি জমি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হব।’
শেখ হাসিনা বলেন, ২০৫০ সালে বিশ্বের খাদ্য চাহিদা ২০০৬ সালের অবস্থান থেকে অন্তত ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে এবং খাদ্যমূল্য বেড়ে ৮৪ শতাংশ দাঁড়াতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কীভাবে এ ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করব? আমি আপনাদের আমার দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কৃষি প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরব, যা বৈশ্বিক পর্যায়ে মানব উন্নয়নে অন্যান্য দেশ গ্রহণ করতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমে আমি আপনাদের বলব, প্রতিবছর জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে দেশে খাদ্যসংকট ও খাদ্য উৎপাদন হ্রাসের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশি জনগণ স্বাভাবিকভাবে সক্ষম। সংকটের মোকাবিলায় বাংলাদেশিরা আস্থার সঙ্গে শক্তভাবে লড়াই করে সমস্যার সমাধান ও সংকট কাটিয়ে উঠতে বিকল্প উপায় গ্রহণের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং চলতি বছর অসময়ে বারবার বন্যায় অপ্রত্যাশিতভাবে খাদ্যঘাটতি দেখা দিয়েছিল। এ ঘাটতি মোকাবিলায় গ্রাহকদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সঙ্গে সঙ্গেই খাদ্য আমদানি নীতি গ্রহণ করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না—এই চ্যালেঞ্জই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জনসংখ্যার প্রায় ৭২ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে এবং ৪৩ শতাংশ কৃষি খাতে শ্রমজীবী হিসেবে কাজ করে; যারা দেশের জিডিপিতে ১৫ শতাংশ অবদান রাখছে। গ্রামীণ অকৃষি খাতের কর্মীর সংখ্যা শতকরা ৪০ শতাংশ, যারা গ্রামীণ আয়ের ৫০ শতাংশের বেশি আয় করে। কাজেই অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই গ্রামীণ রূপান্তরই দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধা দূর করা ও কাউকে পেছনে ফেলে না রাখার লক্ষ্য অর্জনের মূল শক্তি।’
বাংলাদেশ-ইফাদ ঋণচুক্তি
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ছয়টি জেলার দুস্থ মানুষের অবকাঠামো ও বাজার উন্নয়নে ইফাদের সঙ্গে ৯ কোটির বেশি মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি করেছে বাংলাদেশ। গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ইফাদ সদর দপ্তরে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আজম এবং ইফাদ প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট এফ হুয়াংবো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীও উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছয়টি জেলার দুস্থ জনগণের অবকাঠামোগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং তথ্যসংক্রান্ত একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। জেলাগুলো হচ্ছে পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও জামালপুর। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এতে এই জেলাগুলোর ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ উপকৃত হবে।
শহীদুল হক বলেন, প্রকল্পের মূল ব্যয়ের ৬ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ঋণ এবং ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার অনুদান হিসেবে দেবে ইফাদ। বাকি ২ কোটি ৭৯ লাখ ডলার বাংলাদেশ সরকার দেবে।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এর আগে ইফাদের প্রেসিডেন্ট সংস্থার সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুও উঠে আসে।
রোহিঙ্গাদের খাদ্য সরবরাহে দাতাগোষ্ঠীর আগ্রহ কমছে
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে দাতা সংস্থাগুলোর আগ্রহ হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই মানবিক সংস্থা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
গত সোমবার রোমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালকের বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ডেভিড বিসলেকে উদ্ধৃত করে এসব কথা বলেন।
বৈঠকে ডেভিড বিসলে বলেন, রোহিঙ্গাদের খাওয়ানোর ব্যাপারে দাতা সংস্থার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তবে তাঁরা জাতিসংঘের ব্যবস্থার আওতায় দাতা সংস্থার মধ্যে এ আগ্রহ ধরে রাখতে চেষ্টা করছেন। কিন্তু এটি চালিয়ে যাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
শহীদুল হক বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরেকটি বিষয়ের প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক। সেটি হচ্ছে বর্ষাকালে বাংলাদেশের যে স্থানে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে, সেখানে ভূমিধসের সৃষ্টি হতে পারে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গাকে অস্থায়ীভাবে ভাসানচর এলাকায় স্থানান্তর করা হবে।
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন প্রচারণার প্রশংসা করেন ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক.
thanks
Showing posts with label top news bd. Show all posts
Showing posts with label top news bd. Show all posts
Tuesday, February 13, 2018
ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর........
ফেসবুকে এক তরুণীর সঙ্গে একটি ইলেকট্রনিক কোম্পানির চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরিচয় হয়। নিজেকে অসহায় দাবি করে ওই তরুণী তাঁর প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে চান।একপর্যায়ে কোম্পানির চেয়ারম্যানকে নিজের বাসায় দাওয়াত দিলেন। তখনই ঘটে আশল ঘটনা। কোম্পানির চেয়ারম্যানকে আটকে রেখে অশ্লীল ছবি তুলে এক লাখ টাকা দেয়ার জন্ন বলেন । বাধ্য হয়ে বিকাশে ৬৮ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়া পান প্রতারণার শিকার ওই ব্যক্তি। বাকি টাকা না দিলে অশ্লীল ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তরুণী। বিষয়টি নগর গোয়েন্দা পুলিশকে জানানো হয়।
গতকাল মঙ্গলবার নগরের ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদের মুহুরীপাড়ার একটি বাসা থেকে অভিযুক্ত তরুণী রওশন আক্তার ওরফে মেরিকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার আবু বকর সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি এই ঘটনা ঘটলেও ১ লাখ টাকার মধ্যে বাকি ৩২ হাজার টাকার জন্য তরুণী প্রতারণার শিকার ব্যক্তিকে হুমকি দিয়ে আসছেন। পরে অভিযান চালিয়ে তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর আরও তিন সহযোগী ছিলেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তরুণী প্রতারক চক্রের সদস্য কিনা এবং আর কেউ এভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে।
গতকাল দুপুরে নগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে গ্রেপ্তার ওই তরুণী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভুল হয়ে গেছে।
শুধু ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে কোনো তরুণীর বাসায় যাওয়ার আগে খোঁজখবর নিয়ে সতর্কভাবে এগোনোর জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, ঘটনার দিন টাকা দিতে না পারলে বড় ধরনের অঘটনও ঘটতে পারত
Monday, February 12, 2018
পরমাণু হামলা ঠেকাতে সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা রাশিয়ার
রাশিয়া সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পরীক্ষা চালিয়েছে। মস্কোকে সম্ভাব্য পরমাণু হামলা থেকে রক্ষা করতে এ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়েছে।
সোমবার কাজাখস্তানের ‘স্যারি শাগান’ অঞ্চলে চালানো এ পরীক্ষার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকার রাশিয়ার মোকাবেলায় নিজের পরমাণু অস্ত্রকে ‘আকারে ছোট ও আরও আধুনিক’ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর রাশিয়া তার পরমাণু অস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থার পরীক্ষা চালানোর ফুটেজ প্রকাশ করল।
ফুটেজে দেখা গেছে, বরফাচ্ছাদিত একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে।
নতুন এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নাম দেয়া হয়েছে পিআরএস-১এম। পরমাণু হামলা প্রতিহত করার লক্ষ্যে তার আগে রাশিয়ার কাছে ৫৩টি৬ নামে যে স্বল্প পাল্লার অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল এখন থেকে সেগুলোর পরিবর্তে নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে মস্কো।
রাশিয়ার অ্যারোস্পেস ফোর্সের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কমান্ডের উপপ্রধান কর্নেল আন্দ্রে প্রিখোদকো এ সম্পর্কে বলেন, একটি নতুন আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা নিখুঁতভাবে লক্ষ্য বস্তুতে আঘাত করেছে ।
Sunday, February 11, 2018
ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে ইন্টারনেট আড়াই ঘণ্টা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে। আজ সোমবার সকালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ইন্টারনেট নিয়ে দেওয়া আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।
সরকারের নানা পদক্ষেপের পরও প্রশ্ন ফাঁস থামানো যায়নি। গতকাল রোববার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষার আগে ইন্টারনেটের গতিও কমানো হয়েছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। যথারীতি আগাম ঘোষণা দিয়ে আইসিটির প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এ নিয়ে শুরু থেকে সাতটি বিষয়ের প্রশ্নপত্রই ফাঁস হলো।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে আজ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষার দিন আড়াই ঘণ্টা করে ইন্টারনেট সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর ফলে ইন্টারনেট স্বাভাবিক রাখার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিটিআরসির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৮ কোটির বেশি। এর মধ্যে সাড়ে ৭ কোটি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, বাকি ৫০ লাখ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।
এর আগে দেশে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে জঙ্গিদের যোগাযোগের পথ বন্ধ করার কারণ দেখিয়ে ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর দেড় ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয় বাংলাদেশে। পরে ইন্টারনেট চালু হলেও ২২ দিন বাংলাদেশে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বেশ কয়েকটি অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ রাখে সরকার।
SEE MORE>>>>
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ইন্টারনেট নিয়ে দেওয়া আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।
সরকারের নানা পদক্ষেপের পরও প্রশ্ন ফাঁস থামানো যায়নি। গতকাল রোববার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষার আগে ইন্টারনেটের গতিও কমানো হয়েছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। যথারীতি আগাম ঘোষণা দিয়ে আইসিটির প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এ নিয়ে শুরু থেকে সাতটি বিষয়ের প্রশ্নপত্রই ফাঁস হলো।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে আজ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষার দিন আড়াই ঘণ্টা করে ইন্টারনেট সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর ফলে ইন্টারনেট স্বাভাবিক রাখার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিটিআরসির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৮ কোটির বেশি। এর মধ্যে সাড়ে ৭ কোটি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, বাকি ৫০ লাখ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।
এর আগে দেশে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে জঙ্গিদের যোগাযোগের পথ বন্ধ করার কারণ দেখিয়ে ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর দেড় ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয় বাংলাদেশে। পরে ইন্টারনেট চালু হলেও ২২ দিন বাংলাদেশে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বেশ কয়েকটি অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ রাখে সরকার।
SEE MORE>>>>
স্মার্টঘড়ি জানাবে ডায়াবেটিসের লক্ষণ h
কার্ডিওগ্রামের গবেষকেরা সানফ্রান্সিসকোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এক হয়ে কার্ডিওগ্রাম ডিপহার্ট নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পরীক্ষাটি চালান। এই পরীক্ষায় যাদের ডায়াবেটিস আছে এবং যাদের নেই—পার্থক্য করার ক্ষেত্রে ৮৫ শতাংশ সফল হয়েছে অ্যাপল ওয়াচ।
পরীক্ষাটি চালানোর জন্য কার্ডিওগ্রাম ১৪ হাজার ১১ জন অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ২০ কোটিরও বেশি সেন্সর ব্যবহার করেছে। অংশগ্রহণকারীরা তাদের অ্যাপল ওয়াচ বা অ্যান্ড্রয়েডের ওয়্যার যন্ত্রের সঙ্গে কার্ডিওগ্রাম অ্যাপটি ব্যবহার করেছেন। যা দিয়ে হৃৎস্পন্দনের হার, চলাফেরার জন্য কত কদম ফেলা হয়েছে এবং প্রাসঙ্গিক কিছু তথ্যের সমন্বয়ে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডায়াবেটিসের প্রাথমিক অবস্থা অধিকাংশ সময়ই বোঝা এবং নির্ণয় করা যায় না। কারণ প্রচলিত পদ্ধতিতে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে শর্করা নির্ণয়ের যন্ত্র প্রয়োজন। কার্ডিওগ্রামের ডিপহার্টের মতো অ্যাপল ওয়াচ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের সতর্কসংকেত জানানোর সম্ভাবনা রয়েছে যে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো সমস্যা রয়েছে। ফলে ব্যবহারকারী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।
যেহেতু হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে অগ্ন্যাশয় যুক্ত থাকে, তাই হৃৎস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা থেকে ডায়াবেটিসের লক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে অ্যাপল ওয়াচের মতো পরিধেয় যন্ত্রের সেন্সরের মাধ্যমে উচ্চরক্তচাপ, নিদ্রাহীনতা এবং হৃৎপিণ্ডজনিত রোগ নির্ণয় করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আরও গবেষণার জন্য অ্যাপল স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
SEE MORE
Saturday, February 10, 2018
খালেদা জিয়ার নির্বাচন করা নিয়ে অস্পষ্টতা আইন ও সংবিধানের ব্যাখ্যার পাশাপাশি কিছু দৃষ্টান্তও সামনে রয়েছে
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে বিচারিক আদালত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গণে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি এখন সামনে এসেছে সেটি হলো- খালেদা জিয়া কি আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন? প্রচলিত আইন, সংবিধান এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ আদালতের কিছু তরতাজা রায় ও পর্যবেক্ষণ গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ গোছের উত্তর মেলে না। যার সারমর্ম হচ্ছে- বিষয়টি আসলে অস্পষ্ট।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৯-১০ মাস আগে খালেদা জিয়ার এই দণ্ড হওয়ায় সাধারণ্যেও ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে যে, কারাবন্দি বিএনপি প্রধান কি নির্বাচন করতে পারবেন? এনিয়ে জনমনে কৌতুহলেরও অন্ত নেই। সংশ্লিষ্টরা আইন ও সংবিধানের আলোকে মোটাদাগে বলছেন, হাইকোর্ট যদি খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত বা বাতিল করেন তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। হাইকোর্ট যদি দণ্ড স্থগিত না করেন এবং সেক্ষেত্রে জামিনে মুক্তি পেলেও তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আবার হাইকোর্ট যদি দণ্ড স্থগিত বা বাতিল করেন এবং পরবর্তীতে যদি আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখে দেন তাহলেও খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এসবই আইন ও সংবিধানের মোটাদাগের ব্যাখা। তবে এর বাইরেও কথা আছে, বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা যখন উচ্চ আদালতে যাবেন তখন আইন ও সংবিধানের পাশাপাশি কিছু দৃষ্টান্তও তারা সামনে নিয়ে আসবেন।
দুর্নীতির দায়ে বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পরপরই আগামী নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের যোগ্যতা-অযোগ্যতা প্রশ্নে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এক্ষেত্রে দুটি রায় আছে। আপিল চূড়ান্ত পর্যায়ে না যাওয়া পর্যন্ত একটি রায় বলছে নির্বাচনে অংশ নেয়া যাবে, অন্য রায় বলছে যাবে না। এখন ওনার (খালেদা জিয়া) ব্যাপারে আপিল বিভাগ এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা তাদের বিষয়।’ ১৯৯৬ সালে আপিল বিভাগের একটি রায়ে বিচারপতি মোস্তফা কামাল বলেছিলেন, এ ধরনের অযোগ্যতার প্রশ্ন ঠিক হবে ভোটের পরে, নির্বাচনী ট্রাইবুন্যালে। রিটার্নিং অফিসার মনোনয়ন বাতিল করলেও রিট চলবে না। অন্য রায়টি দিয়েছিল হাইকোর্ট। হাইকোর্ট রায়ে বলেছিল, বিচারিক আদালতে কেউ দ্লিত হওয়ামাত্রই নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। তার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার (দণ্ড) বিষয়টি স্থগিত করার ক্ষমতা আপিল আদালতের হাতে নেই।
সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ (২ গ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, নৈতিক স্খলনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম দুই বছর কারাবাসে থেকে মুক্তির পর পাঁচ বছর পার না হলে কেউ নির্বাচনে যোগ্য হবেন না।
খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহ্দীন মালিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘নিম্ন আদালতে সাজা হলেই কেউ নির্বাচন করতে পারবেন কি-না, বিষয়টি আসলে আমাদের আইনে স্পষ্ট নয়। নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে, এখন তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন, এটা স্বাভাবিক। উচ্চ আদালত যদি নিম্ন আদালতের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ না দেয় এবং আপিল বিচারাধীন থাকলে আইনের স্বাভাবিক হিসাব বলে-কারাগারে থেকেও তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। আর উচ্চ আদালত যদি তার আপিল খারিজ করেন তাহলে অন্য কথা। তাছাড়া উচ্চ আদালতের ইদানিং কিছু রায়ে বিষয়গুলো নিয়ে অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছে। যেমন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সাজা হয়েছিল, হাইকোর্ট তার আপিল খারিজ করে দেয়, এরপর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ খারিজ করে নতুন করে শুনানির নির্দেশ দেয়। এর অর্থ হচ্ছে মামলাটি এখনো হাইকোর্টে বিচারাধীন। কিন্তু মায়ার মন্ত্রিত্ব কিংবা সংসদ সদস্য পদ তো যায়নি। আপিল করা অবস্থায় তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল আছেন। কাজেই এখানে মন্ত্রী মায়ার বিষয়টি একটি উদাহরণ হয়ে থাকছে। এই উদাহরণ ধরে এটা বলা যায়, উচ্চ আদালতে আপিল থাকলে কেউ নির্বাচনে অযোগ্য হওয়ার কথা নয়।’
শাহ্দীন মালিক বলেন, ‘নবম সংসদের সদস্য থাকা এবং যিনি বর্তমান সংসদেরও সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মামলার রায় ও এর ঘটনাপ্রবাহও আমাদের সামনে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি (আওয়ামী লীগের) আবদুর রহমান বদির তিন বছর সাজা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আপিল চলমান, বাস্তবতা হচ্ছে তিনিও এমপি পদে বহাল আছেন। কাজেই নিম্ন আদালতে সাজা হলেই কোনো ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন না-বিষয়টি চূড়ান্ত নয় বলেই ধরে নেয়া যায়।’
বিশিষ্ট এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, “নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগ্যতা-অযোগ্যতা সম্পর্কে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদেও ‘হইবার’, ‘থাকিবার’ ইত্যাদি কথা বলা আছে। এখন কথা হলো সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রীদের স্বপদে বহাল থাকার যেসব উদাহরণ সবার সামনে আছে, স্বাভাবিক হিসাবে সেই সুযোগ খালেদা জিয়ারও থাকার কথা। কিন্তু এরপরও কথা থেকে যায়।’
আইনজ্ঞদের মতে, আইন ও সংবিধানের গভীর পর্যালোচনা বলে- ফৌজদারি অপরাধে চূড়ান্ত সাজা না হওয়া পর্যন্ত আইনের দৃষ্টিতে কাউকে দোষী বলে গণ্য করা যায় না। আমাদের দেশে সাজা চূড়ান্ত করার একমাত্র এখতিয়ার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের। নিম্ন আদালত বা হাইকোর্টে সাজার উপর নির্ভর করে অতীতে কারো সংসদ সদস্য পদ খারিজ হয়নি বা নির্বাচনের অযোগ্যতাও সৃষ্টি হয়নি। তবে নিম্ন আদালত বা হাইকোর্টে দ্লের বিরুদ্ধে কারো আপিল গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তির দণ্ডাদেশ বহাল থেকে যায়। কিন্তু আপিল গৃহীত হলে তাকে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলা হয় না। তিনি গণ্য হন বিচারাধীন ব্যক্তি হিসেবে।
আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, দেশ স্বাধীনের পর এখন পর্যন্ত বিচারাধীন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কোন উদাহরণ সৃষ্টি হয়নি। এমনকি পদে বহাল না থাকারও কোন নজির নেই। বরং জেনারেল এরশাদসহ অসংখ্য দণ্ডপ্রাপ্ত বিচারাধীন ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পেরেছেন এবং সংসদ সদস্য পদেও বহাল থেকেছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে নিম্ন আদালতের দেয়া ১৩ বছরের সাজা বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে আপিল বিভাগ বাতিল করে দেয়। আপিল বিভাগের ওই রায়ের প্রসঙ্গে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আপিল বিভাগের এই রায়ের পর ধরে নিতে হবে নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে মায়ার আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। সে কারণে তার জামিন বহাল এবং সাজা স্থগিত থাকবে।’ দুদকের প্রধান আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী মায়ার সাজা স্থগিত রয়েছে। ফলে তিনি আইনের দৃষ্টিতে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন এ কথা বলা যায় না।
সংবিধানের ৬৬ (২) ঘ অনুচ্ছেদ ধরে এগোলে দেখা যায়, মন্ত্রী মায়া এখনো দণ্ডভোগ করেননি। এছাড়া তার নিম্ন আদালতের দণ্ড স্থগিত রয়েছে। এ ধরনের একটি সাংবিধানিক প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছিল এইচএম এরশাদকে সাজা দেয়াকে কেন্দ্র করে। ১৯৯০ সালে কারাগারে যাওয়ার পর এরশাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার মধ্যে ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত জনতা টাওয়ার দুর্নীতি মামলা, রাষ্টপ্রধান হিসেবে পাওয়া উপহার সামগ্রী আত্মসাত্সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলাসহ তিনটি মামলায় নিম্ন আদালতে এরশাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। এসব মামলায় এরশাদের ৩ থেকে ১৩ বছরের দণ্ড দিয়েছিল নিম্ন আদালত। এর বিরুদ্ধে এরশাদ হাইকোর্টে আপিল করেন। নিম্ন আদালতের সাজার সময় এরশাদ সংসদ সদস্য ছিলেন। কিন্তু তার আপিল বিচারাধীন থাকার কারণে সংসদ সদস্যপদ বাতিলের প্রশ্ন সেসময় উত্থাপিত হয়নি। কিন্তু জনতা টাওয়ার মামলায় ২০০০ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এরশাদের সাজা চূড়ান্ত করে। যে কারণে এরশাদ ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। এমনকি তার সংসদ সদস্য পদও খারিজ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নিম্ন আদালতের সাজার পর হাইকোর্টে আপিল করে এরশাদ ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পেরেছিলেন। এই ইস্যুটি ১৯৯৬ সালেই উচ্চ আদালত নিষ্পত্তি করে। সেসময় এরশাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কুড়িগ্রাম আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু হাইকোর্ট এরশাদকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার প্রশ্নে কোন আদেশ দেয়নি।
খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন চাইবো। আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারা না পারার বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায়গুলোতেই কিছু অস্পষ্টতা আছে। আমরা সবদিক সামনে রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এদিকে, ২০১৭ সালের ৯ মে মো. মামুন বনাম রাষ্ট্র মামলায় বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. খুরশিদ আলম সরকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ ‘দোষী সাব্যস্ত’, ‘দণ্ড স্থগিত’ এবং ‘দ্ল কার্যকরণ স্থগিত’ হওয়ার মধ্যে প্রভেদ সুনির্দিষ্ট করে একটি রায় দেয়। তাতে স্থির করা দিকনির্দেশনায় বলা হয়, ‘নিম্ন আপিলাত আদালত’-এর এখতিয়ার কেবল দ্ল স্থগিত করার। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কার্যকারিতা স্থগিত করার ক্ষমতা তার নেই। মামলাটির অন্যতম অ্যামিকাস কিউরি প্রবীর নিয়োগী এ মত দিয়েছিলেন। সামগ্রিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে বলা যায়, একাদশ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ করতে পারা না পারার বিষয়টি কার্যত অস্পষ্ট।
এদিকে, এখনই কঠোর কোনো আন্দোলনের কর্মসূচির দিকে যাচ্ছে না বিএনপি। খালেদা জিয়ার দ্লের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পর এর ফলাফল এবং সরকারের ভূমিকা দেখে দলটি পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, কারাগারে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া তাদের স্পষ্ট বলে গেছেন যেন নিয়মতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হয়। কোনো ধরনের হটকারী সিদ্ধান্ত না নিতে বিএনপি প্রধান শেষ মুহূর্তেও দলের নেতাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে গেছেন বলে জানান ফখরুল
Subscribe to:
Comments (Atom)

